কৃষাণ
- মোঃ ফয়সাল খান
কাদের বুকে মারিছো লাথি,
পদবুট তুলে ঐ বুকে?
কাদের ঘাড়ে চড়িয়া বসিছো যাহারা মরিছে ধুকেধুকে।
পশুবৃত্তির করুণ অনলে পুড়িয়া মারিছো যাকে,
তাহারাই তোমাকে অন্ন দানিলো জীবনের বাঁকেবাঁকে।
যাহারা আনিলো বসন্ত ডাকিয়া,তাদেরী ছুড়িলা বৈশাখে!
পথেপথে ঘুরে জীবন বিনাশ, মরিছে অকালে দুখে।
সাহেব সাজিয়া কোট-টাই পড়ে পদাঘাতে জমিন কাপিয়া যায়!
পকেট গরমে সুদ-ঘুষে রত,
বিবেক পিষিয়া লও!
অহংকারকের ফুলঝুড়ি নিয়ে কোকিল কণ্ঠে গাও,
"ওহে গাইয়া মজুর,বৈভবে সজ্জিত আমি,নাও দেখে না আজ,
তোমাদের অন্ন তুচ্ছ সামান্য, আমার এই অঢেল বৈভবের মাঝ;
জোড় হাতে ভিক্ষা চেয়ে নাও হে, করিয়ো নাতো তুমি লাজ।"
মনুষ্যত্ব কাদিয়া বলে,
"হে অকৃতজ্ঞ, তোমাদের টাকার পাহাড় গিলিয়া গিলিয়া খাও,
কৃষাণের ধানে বাড়াইলে হস্ত,কেটে নেবো জেনে নাও।
যাহাদের পরে ভর দিয়ে সদা চলিছো জীবনভর,
যাহাদের অন্ন গিলিয়া গেলে,
তাহারাই বঞ্চিত ঐআহার!
খিলখিলিয়া হাসিতেছো ঐ অট্রালিকার পরে,
ভেবে গদগদ, ভাবিছো তুমি, অভাব পৌছাবে না মোর দোরে।"
যে জাতির কৃষাণ, দুখে আছে ভীষণ;
তব জেনে নাও-
হোথায় বিরাজে সদা অমানিশা, বিবেকের অবসান।
জেনে নাও যদি ঐ কৃষানে,ক্ষণিক বাকিয়া বসে,
টাকার পাহাড়, অট্টালিকা ঐ, পড়িবে দ্রুত ধ্বসে।
"দানিবো না অন্ন তোমাদের পানে,
জালিম-অসুরের দল,
চিবিয়া খায়বি বৈভব টাকা,
দেখি বাচো কতকাল।"
০৫-০২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।